মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ”হামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া একটি পরিবার” শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেওয়ার উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের জানাউড়া গ্রামের ছোয়াব উল্লাহ’র ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

সোমবার (১৮ আগস্ট) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কতৃক শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ বলেন, গত ১৭ আগষ্ট রোববার,শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে জানাউড়া গ্রামের ওয়াহিদ মিয়া আমিসহ আমার আত্মীয় স্বজনের নাম নিয়ে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।

তিনি বলেন, প্রকৃত সত্য ঘটনা হলো জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। আমি সিন্দুরখান ইউনিয়নের খলিলপুর মৌজাতে সাবকাবালা দলিল মূলে ওয়াহিদ মিয়ার পূর্বপুরুষ এসএ রেকর্ডীয় মালিক আনজব উল্লা এর নিকট ধারাবাহিক বিক্রয় থেকে ২১ শতক ভূমি ক্রয় করি আব্দুল কাদির এর উত্তরাধীকারীদের নিকট থেকে। একই সাথে ষাড়ের গজ মৌজা থেকে আরও ২৩ শতক জমি ক্রয় করি। এই ৪৪ শতক ভূমিতে আমি বিগত ৩০ বছর পূর্ব থেকে গাছ লাগিয়ে রেখেছি ও কিছু অংশে ধানের চারা রোপন করে চাষাবাদ করে আসছি। আমার এলাকার প্রতিবেশী মৃত মনা মিয়া ছেলে ওয়াহিদ মিয়া, আহাদ মিয়া, সেলিম মিয়াও শাকিল মিয়া-পিতা ওয়াহিদ মিয়া/হারিছ মিয়া, ওয়ারিছ মিয়া, দেলোয়ার মিয়া সর্ব পিতা-মৃত নূর মিয়া, ওয়াহিদ মিয়ার স্ত্রী বেগম, রোমান মিয়া, পিতা-আহাদ মিয়া, জহির মিয়া, পিতা-মুকিত মিয়া, হেলিম মিয়া, পিতা-মৃত সারাজ মিয়া এই ১১ জন সহ অজ্ঞাত নামা আর ৪/৫ জন আমার এজাহার নামীয় আমার মামলার আসামী।

গত ২১ জুলাই দুপুরে আমি দেখতে পাই আহাদ, ওয়াহিদ, শাকিল ও সেলিম মিয়া মিলে আমার ওই জায়গা থেকে অন্যায়ভাবে একটি আকাশ মনি গাছ কেটে ফেলে। আমি তাদের গাছ কাটার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাতারি মারধর শুরু করে। এসময় অন্যান্য বিবাদীগণ তাদের সাহয্যে এগিয়ে আসে। তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দা, কুড়াল, ছুরি ও লাঠি দিয়ে আমাকে আঘাত করতে থাকে। ৫ নং বিবাদী হারিছ মিয়ার হুকুমে আহাদ মিয়া আমার মাথায় প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে কুড়াল দিয়ে কুপ মারিলে কুপটি লক্ষ্য ভ্রষ্ট হইয়া আমার কোমরের ডান পাশে পড়িয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হই। সেখানে অসংখ্য সেলাই দেয়া হয়। আমি তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যাই। পরে ২ নং বিবাদী ওয়াহিদ মিয়া আমার মাথার ডান পাশে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ঘাই মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। যাহাতে ৪ টি সেলাই লাগে। ৩ নং আসামী শাকিলের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে গাই মারে, এতে আমার বাম হতের অনামিকা আঙ্গুলে কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। যাহাতে ৩টি সেলাই লাগে। আমার হাল্লা চিৎকারে আমার ছেলে এবায়েদ উল্লা (২২) আমাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে ৩ নং আসামী শাকিল তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমার ছেলের বাম হাতের বাহুতে ও বাম কানে ঘাই মেরে মারাত্বক কাটা রক্তাক্ত জখম করে। উভয় ক্ষতস্থানে ৪ টি সেলাই লাগে।

তাদের সন্ত্রাসী আক্রমনে আমরা পিতা ও পুত্র মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলে ৪ হতে ১১ বিবাদী আমাদের ওপর লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমার স্ত্রী আমাদের রক্ষার জন্য আগাইয়া আসলে তার ওপরও তারা আক্রমন করে। আমরা মারা গেছি ভাবিয়া তারা আশপাশের লোকজন জড়ো হতে দেখে আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। আমার মেয়ে নাজমিনসহ এলাকাবাসীর সহযোগীতায় প্রথমে আমাদের শ্রীমঙ্গল স্থাস্ব্য কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আমাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার অবস্থার অবনতি হলে আমাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ডাক্তার আমার ছেলেকে সিলেট রেফার্ড না করলেও আমার মেয়ে তার ভাইকে সাথে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আমরা ভর্তি হই। আমার কোমড়ের পেছনের আঘাতটি এতো বেশি যে, কিডনীতে গিয়ে আঘাত করে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসায় থাকার পর আমি পরে সিলেট রয়েল প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করাই। আমি এখনও সুস্থ হয়ে ওঠতে পারিনি। ডাক্তার আমার পেট কেটে এদিক থেকে কিডনির দিকে সেলাই দেন। আমার শরীরে প্রায় ৫০ টির ওপরে সেলাই রয়েছে। সেলাই থেকে এখনও রক্ত ও পানি পড়ছে। আমার মেয়ে তাদের নামে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করলে পুলিশ তাদের দুজনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। বাকীরা জামিনে বের হয়ে আসে। ওই মামলার মূল আসামী ১ নং আহাদ মিয়া,৩নং শাকিল ও ৪ নং সেলিম মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে। তারা মূল ঘটনাকে আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে। আমি সহ আমার ছেলে গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে এখনও চিকিৎিসাধীন। কিন্তু তাদের ঘরের মহিলাদের শ্লীলতাহানী, পাকা ঘর ভেঙে ফেলা ও মালামাল লুটপাটের যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা যে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি তাও মিথ্যা। মূলত আমরা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। বরং তাদের মধ্যে কতেক আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। তারা আরও বলেছে জামিন নিয়ে তারা বাড়ীতে প্রবেশ করতে পারছে না আমাদের ভয়ে, এটা মূলত তারা যে অপরাধ করেছে এটাকে আড়াল করার জন্য সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহানুভূতি পেতে এমন মিথ্যা নাটক করেছে। যারা জামিনে আছে তারা সবাই নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছে বলে জানান।