তাজরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিরল উদাহরণ স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ব্যস্ত রাজনৈতিক সময়সূচির মাঝেও তিনি সময় বের করে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে ছুটে যান তাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষক আহমদ আলী সাহেবের বাড়িতে।

সাক্ষাতের কালে প্রিয় শিক্ষকের জন‍্য তিনি সঙ্গে করে একটি পাঞ্জাবি নিয়ে যান, যা নিজ হাতে তিনি শিক্ষকের গায়ে পরিয়ে দেন। এরপর সময় কাটান শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, সকলের খোঁজ নেন এবং স্মৃতিচারণ করেন শৈশবের দিনগুলো।

এই হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও তাঁর ছোট ভাই ফকরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুলাউড়া আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আহমদ, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুর মুন্তাজিম, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এম সাইফুল ইসলাম খাঁন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের আরও নেতাকর্মী।

এ সময় তিনি কুশল বিনিময় করেন শিক্ষকের বড় ভাই হাজী মাহমুদ আলী (মাষ্টার) ও ডা. মঈন উদ্দিন আহমদসহ উনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথেও। উল্লেখ‍্য, আহমদ আলী সাহেবের পরিবারে আরও অনেক সদস্যই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত যারা এলাকায় ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে সুপরিচিত এবং সম্মানিত।

এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী আমিরে জামায়াতের এই হঠাৎ আগমণের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু একজন শিক্ষক নয়, পুরো শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এতে সম্মানিত হয়েছেন উভয়ই শিক্ষক ও ছাত্র।

উল্লেখ্য, আহমদ আলী সাহেব ১৯৬৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম পাঠশালা কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের তুলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর শিক্ষাদান এখনও ছাত্রদের মনে অম্লান স্মৃতি হয়ে আছে।

ডা. শফিকুর রহমানের এই কাজ সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের মর্যাদা ও শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।