থ্যালাসেমিয়া দিবস প্রতি বছর ৮ মে পালিত হয় এবং এ বছরে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হল “থ্যালাসেমিয়ার জন্য একসাথে: সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করা, রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।”

ক্যান্সার এর মতো থ্যালাসেমিয়া হল এমন একটি রোগ যা সঠিক সময় ধরা না পড়লে মারণ রোগে পরিণত হয়ে যায়। তবে থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রয়োজন সতর্কতা এবং সচেতনতা। এই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই প্রতিবছর ৮ মে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ, যা হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং এর ফলে রক্তাল্পতা, ক্লান্তি, এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয়।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো-

▶️ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
▶️ জেনেটিক স্ক্রিনিং এবং প্রি-নেটাল পরীক্ষা উৎসাহিত করা
▶️ রোগীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা
▶️ রক্তদান এবং রোগীদের মানসিক সহায়তা প্রদান করা।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের প্রধান উপায়গুলো-

থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রোগ, অর্থাৎ এটি বংশগতভাবে পিতা-মাতার মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। তাই থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের প্রধান উপায়গুলো হলো:

▶️ বিবাহ-পূর্ব থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা (Carrier Screening):

বিবাহের আগে পুরুষ ও নারীর থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত। যদি দুইজনই ক্যারিয়ার হন, তবে তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে (২৫%)।

▶️ সম্পর্কে বিবাহে সতর্কতা:

আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ হলে উভয়েই ক্যারিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এসব ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

▶️ সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা:

স্কুল, কলেজ ও সমাজ পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে তথ্য প্রচার করা যেতে পারে।

▶️ গর্ভকালীন জিন-পরীক্ষা (Prenatal Diagnosis)

▶️ জাতীয় থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ নীতি:

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে। সরকারি পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে নীতিমালা, স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম এবং রক্তের ব্যাঙ্ক পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডাঃ ফারজানা শারমিন (শুভ্রা)

-স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ‍্যা বিশেষজ্ঞ