
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দায়েরকৃত দুটি চেক সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী মোঃ জয়নাল আবেদীন বাদশা।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেল ৫টায় মৌলভীবাজারের মামার বাড়ি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাব, মৌলভীবাজার জেলা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ জয়নাল আবেদীন বাদশা জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি চেক মামলার প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরতেই তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাসুক মিয়া অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় চিনি ব্যবসার কথা বলে কথিত মাহবুব মুর্শেদ নামের এক ব্যক্তির ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি দাবি করেন, সালিশ বৈঠকের এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরকৃত চেক গ্রহণ করা হয় এবং একটি লিখিত চুক্তিপত্রে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই চেকের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে জিআর ২৫৫/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮১/২০২৪) এবং জিআর ২৫৬/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮২/২০২৪) মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আপিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করা হলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে আদালতকে জানায় যে, উল্লিখিত হিসাব নম্বরটির কোনো অস্তিত্ব তাদের শ্রীমঙ্গল শাখায় পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলাদ্বয়ের রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অন্য মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি উচ্চ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জয়নাল আবেদীন বাদশা অভিযোগ করেন, আপিল পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের সময় গত ৩০ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রাখি। উচ্চ আদালতে মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত, সঠিক তথ্য যাচাই এবং তার পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ব্যাংক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
