সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ হাজীপুরে রাস্তা বিরোধ, শান্তিপূর্ণ সমাধান চান এলাকাবাসী
প্রকাশ: ৯:১৪ অপরাহ্ণ জুন ২২, ২০২৬

🔹 ইঞ্জিঃ মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ গ্রামে একটি মন্দিরে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একপক্ষ রাস্তা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে, অন্যপক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ হাজীপুরে এ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ গ্রামের কালাচাঁদ (তলী) মন্দিরে যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় দুই বছর আগে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি কয়েকজন ভূমির মালিক রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে। তবে রাস্তার একটি অংশ আব্দুল জলিলের পরিবারের মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁর ছেলে রাশেদ খান।
রাশেদ খানের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য বিধান দত্তের অনুরোধে এবং বিকল্প জমি দেওয়ার আশ্বাসে তারা রাস্তার জন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত জমি বুঝিয়ে না দেওয়ায় তারা নিজেদের জমির অংশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৬ জুন কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে তারা মন্দিরে যাতায়াত ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। রাস্তা কেটে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনেও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ১৫ জুন তারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে রাস্তা পুনর্বহাল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন, বিষয়টি মূলত জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ। এটিকে সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে রূপ না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তাদের ভাষ্য, হাজীপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। সেই পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে উভয় পক্ষের সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর আহমদ চৌধুরী বুলবুল জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক হয়েছে এবং জনস্বার্থে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের চলাচলের সমস্যা দূর হবে, অন্যদিকে এলাকার দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশও অটুট থাকবে।