
🔹 মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়া ও দেখে ফেলার জেরে এক মাদকসেবীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে বকুল বেগম (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ঘাতক হেলিম মিয়াকে (৪৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ঘাতক হেলিম মিয়াকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখে ফেলেন তার ভাতিজা সাইদুল ইসলাম (২৫)। এ নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হেলিম মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে সাইদুলের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে সাইদুল দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
হেলিম মিয়া পিছু নিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকে আবারও হামলার চেষ্টা করলে গৃহকর্ত্রী বকুল বেগম সাইদুলকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এসময় হেলিম মিয়া বকুল বেগমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তাকে বাঁচাতে বকুল বেগমের জামাতা ওয়াদুদ মিয়া এবং সাইদুলের ভাই আমিনুল ইসলাম এগিয়ে এলে হেলিম তাদেরও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে পালানোর সময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে ঘাতক হেলিম মিয়াকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাদক সেবন করতে দেখে ফেলায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।