খুলনায় চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা, অভিযানের অপেক্ষায় নগরবাসী
প্রকাশ: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ মে ৯, ২০২৬

প্রতিকী ছবি।
রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনায় শীর্ষ চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করেছে র্যাব-৬। প্রাথমিকভাবে ৩৩ জনকে চিহ্নিত করা হলেও তালিকা আরও বড় হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে অতীতে একাধিক তালিকা তৈরির পরও দৃশ্যমান অভিযান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংশয় ও উদ্বেগ।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘নিরপেক্ষ’ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জেলার শীর্ষ অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা। ইতোমধ্যে তাদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
র্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখানে আলাদা কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা রাখা হয়নি। তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের কেউ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এর আগে গত মার্চে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) খুলনার আট থানাভিত্তিক ৪৭৫ জন অপরাধীর তালিকা তৈরি করে। সেখানে ২৮ জন চাঁদাবাজ, ৪৭ জন সন্ত্রাসী ও প্রায় ৪০০ মাদক কারবারির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তালিকায় প্রভাবশালী কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নামও উঠে আসে। ঈদুল ফিতরের পর যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা তৈরির মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকায় অপরাধ পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-খুনোখুনির ঘটনা বেড়েই চলছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সারাদেশে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুতের সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবেই খুলনায় এ কার্যক্রম চলছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থা তাদের নিজস্ব তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনায় অপরাধ দমনে কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে জনগণকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তার ভাষ্য, প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসীদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের তথ্য রয়েছে। চাইলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব। কিন্তু তা না করে তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আগাম সতর্ক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।