‘ছিলটি লোক উৎসব ২০২৬’ । শেকড়ের সন্ধানে এক অনন্য আয়োজন
প্রকাশ: ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ এপ্রিল ১৩, ২০২৬

🔘 ডেস্ক রিপোর্টঃ
সিলেটের হাজার বছরের নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সিলেটে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ছিলটি লোক উৎসব ২০২৬’। ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নগরীর ঐতিহাসিক আলী আমজদের ঘড়ি সংলগ্ন ‘ছিলটি ঐতিহ্য চত্বরে’ এই বর্ণাঢ্য উৎসব সম্পন্ন হয়।
‘হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবটি ছিল সিলেটের মরমী ও লোক ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রদর্শনী।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনো সাধারণ লোকজ মেলা নয়; বরং শুধুমাত্র ছিলটি ভাষায় লিখিত গান, কবিতা, ছড়া, পুঁথি ও নাটকের একটি বিশেষায়িত উৎসব। মরমী মহাজনরা বিভিন্ন ভাষায় তাদের সৃষ্টি রেখে গেলেও, এই উৎসবের মূল প্রয়াস ছিল কেবল ছিলটি ভাষায় রচিত বাণীগুলোকে প্রচার ও প্রসার করা।
দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা, যা আগত দর্শকদের মুগ্ধ করে:
• সঙ্গীত ও ধামাইল: উৎসবে ৪টি জেলার ৬টি ধামাইল দল এবং ২টি বিয়ার গানের দল অংশগ্রহণ করে। প্রায় ৩০ জন কণ্ঠশিল্পী সিলেটের প্রয়াত ও জীবিত মহাজনদের লেখা ছিলটি গান পরিবেশন করেন।
• মরমী গান ও ঐতিহ্যবাহী ফ্যাশন শো: ১০ জন মরমী সাধকের গানকে উপজীব্য করে ছিলটি লোকজ ঐতিহ্যের মিশেলে একটি নান্দনিক ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয়।
• সাহিত্য ও নাটক: ছিলটি ভাষায় কবিতা পাঠ করেন ৮ জন কবি এবং ৩ জন পুঁথিশিল্পী তাদের চিরায়ত পরিবেশনা তুলে ধরেন। এছাড়া ৩টি নাট্যদলের মঞ্চায়ন উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয়।
• ইসলামী সঙ্গীত: ছিলটি ভাষায় লিখিত নাশিদ বা ইসলামী সঙ্গীতের জন্য একটি বিশেষ স্লট রাখা হয়েছিল।
ছিলটি ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
আয়োজক সংগঠনটি দীর্ঘ দিন ধরে সিলেটের শিল্পী ও কলাকুশলীদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং প্রচারণার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের যথাযথ সহযোগিতায় উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সমাপনী অধিবেশনে আয়োজকরা বলেন, “ছিলটি ভাষায় লোক উৎসবের এই আয়োজন এটাই প্রথম। ভবিষ্যতে আরও সুগঠিতভাবে এ ধরনের উৎসব করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।” তারা আশা প্রকাশ করেন যে, অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনও ছিলটি ভাষায় আরও বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যা এই অঞ্চলের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে আরও পরিচিত করবে।
আয়োজন শেষে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ছিলটি ভাষা ও সাহিত্যের জয়গান গেয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।