“যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তারা কীভাবে ক্ষমা না চেয়ে ভোট চায়?”- হাবিব উন নবী খান সোহেল
প্রকাশ: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ অক্টোবর ৬, ২০২৫

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি:
বিএনপির যুবদলের খুলনার তেরখাদা উপজেলা শাখার রোববার(৫ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান (সোহেল) কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তারা কীভাবে ক্ষমা না চেয়ে ভোট চায়?”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশ রক্ত ও বীরত্বের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। যারা এই গৌরবময় ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে পারে না।”
হাবিব উন নবী খান জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে উল্লেখ করেন, “তারা ক্ষমতায় এলে মুসলমান সত্ত্বেও তাদের থেকে ‘সার্টিফিকেট’ নিতে হবে। আমাদের দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এগুলো মেনে নেওয়া যাবে না।”
সমাবেশে যুবদলের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কওসার আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ ও সদস্য সচিব নাঈমুজ্জামান জনি উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে ক্ষমতায় এলে তেরখাদার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সেতারা সুলতানা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ শেখ, বিএনপি নেতা ইকরাম হোসেন জমাদ্দার, মোল্যা মাহবুবুর রহমান, সরদার আব্দুল মান্নান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাঈমুল হক, মিল্টান মুন্সি, আজিবার শেখ, এস.কে. নাসির আহমেদ, কামরুল মোল্যা, যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু, গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, অহিদ শেখ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ মুন্সি, শামীম আহমেদ রমিজ, কৃষক দল নেতা রাজু চৌধুরী, সাবু মোল্যা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ টগরসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে এবং নির্বাচন একটি ছদ্মবেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে জনগণের ভোটের কোনো মূল্য নেই। তাই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সঠিক নেতৃত্ব অপরিহার্য।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অবিচল থাকার শপথ গ্রহণ করেন এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন।