রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার খালিশপুরের বাস্তহারা এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এক মাস আগে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) উচ্ছেদ অভিযানে একই স্থানে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হলেও, নতুন করে সেখানে জামায়াত নেতারা একটি অফিস নির্মাণ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টিন ও কাঠ দিয়ে নির্মিত প্রায় ৬–৭ হাত প্রস্থ এবং ১০–১২ হাত দৈর্ঘ্যের একটি ঘর নির্মিত হয়েছে। ঘরের ভেতরে জামায়াতের খুলনা মহানগর আমির ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের ছবি ও পোস্টারসহ দলের বিভিন্ন প্রচার সামগ্রী রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে এটি জামায়াতের ৯ নম্বর ওয়ার্ড অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখানে নিয়মিত বৈঠক করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাস্তহারা উত্তর ইউনিটের সভাপতি মো. মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরমান, বাস্তহারা দক্ষিণ ইউনিটের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াত নেতারা এ দখল প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন দবির বলেন, “খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে জামায়াত অফিস তৈরি করা হয়েছে। তারা এখানে নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।”

তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. বায়োজিদ। তিনি বলেন, “ওই অফিসটি বাস্তুহারা যুবকদের একটি সামাজিক সংগঠন, যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করে থাকে। এটি জামায়াতে ইসলামীর অফিস নয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ফিরোজ সরকার বলেন, “মহানগরের সড়কগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।”

এদিকে সরকারি জমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দখলদারির প্রবণতা এবং সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।