মোহাম্মদ আলী শোভন, কুলাউড়াঃ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সুরাইয়া ইসাছমিন রুহি (১৬) নামে এক মেধাবী ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুলাই) সকালে তার মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সুরাইয়ার গ্রামের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আশিঘর গিলাছড়া গ্রামে। তার বাবা শেখ রুমান আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া কুলাউড়ার উছলাপাড়ায় খালার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। অভাব-অনটনের কারণে পরিবারের পক্ষে তাকে সাথে রাখা সম্ভব হয়নি, তাই খালাই ছিল তার আশ্রয়।

আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সুরাইয়ার খালা ফোন করে পরিবারকে জানান যে, ঘুম থেকে না ওঠায় তারা রুমের দরজা খুলতে চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখেন, সুরাইয়া ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে নামিয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।আশেপাশের লোকজন, শিক্ষক ও সহপাঠীরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না—সবসময় হাসিখুশি, স্বপ্নে ভরা একটি মেয়ের এমন পরিণতি হতে পারে।

সুরাইয়ার বাবা শেখ রুমান আলী বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। ওর জীবনে কোনো হতাশা ছিল না। ও অনেক স্বপ্ন দেখত। খালার ফোন পেয়ে আমরা ছুটে আসি, এসে দেখি মেয়েটা মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।

সুরাইয়ার মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ বলছেন এটি আত্মহত্যা, কেউ বলছেন এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তার জীবনসংগ্রাম ও মেধাবী পরিচয় সামনে এনে অনেকে বলছেন এভাবে তো একটা স্বপ্নভরা মেয়ের জীবন নিভে যেতে পারে না!

এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারকেই শোকস্তব্ধ করেনি, নাড়া দিয়েছে পুরো কুলাউড়া এলাকাকে।