
ছবি: দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখার।
◑ চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ
ভোলার চরফ্যাসনের দুলারহাটে হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজীসহ পৃথক দুই মামলার আসামীকে গ্রেপ্তারের পর আসামীদের সঙ্গে আতাঁত করে পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুলারহাট থানার ওসির বিরুদ্ধে।
তবে ওসির দাবী, আসামী বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আদালতে না পাঠিয়ে আসামীকে ছেড়ে দেয়ার বৈধতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি ওসি।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে ছেড়ে দেয়ায় আতংক ছড়িয়ে পরেছে বাদী ও স্বাক্ষীদের পরিবারের মধ্যে।থানা থেকে মুক্তি পেয়ে মামলা তুলে নিতে আসামীদের অব্যহত হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে মামলার বাদীসহ তার পরিবারের সদস্যরা।
রোববার রাতে পৃথক দুই মামলার আসামী খোকন মাঝিকে উপজেলার দুলারহাট থানার আহাম্মদপুর ইউনিয়নে চৌকিদার খাল বাজার তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৩০ জানুয়ারী মামলার বাদী ইব্রাহীম আহাম্মদপুর ইউনিয়নের চকিদার খাল বাজার এলাকায় গেলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা আসামী সারোয়ার ও খোকন মাঝির নেতৃত্বে ১২/১৩ জনের একটি চক্র হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন।
এ ঘটনায় দুলারহাট থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ অভিযুক্তদের সঙ্গে আতাঁত করে মামলা নেয়নি। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে গত ১ জুন বাদী হয়ে ১৩ জনসহ অজ্ঞাত নামা আসামী করে চরফ্যাসন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলার দায়ের করেন।
অপর দিকে আসামী মো. শাহে আলম বাবুল ও খোকান মাঝি আহাম্মদপুর ইউনিয়নের চকিদারের খাল বাজারে মৎস্য ব্যবসায়ী ইউসুফ বেপারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে আসছিলেন। পরে গত ১ এপ্রিল আসামীরা তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা হাতিয়ে নেন। বাকী টাকার জন্য প্রায় সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি তাদের দাবীকৃত চাঁদার বাকী ৭ লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত ২৪ মে শাহে আলম বাবুল ও খোকনের নেতৃত্বে ওই বাজারে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে গত ২৯ মে শাহে আলম বাবুল ও খোকনসহ ১৩ জনকে আসামী করে চরফ্যাসন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজীর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালত ওই দুটি মামলা রেকর্ড ভুক্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুলারহাট থানা পলিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে দুলারহাট থানা পুলিশ পৃথক মামলা দুটি রেকর্ড ভুক্ত করলেও আসামীদের গ্রেপ্তারে গড়ি মাসি করেন। পরে উভয় মামলার বাদী থেকে অনৈতিক লেনদেন নিয়ে দুই মামলার আসামী খোকন মাঝিকে রোববার রাতে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করেন দুলারহাট থানা পুলিশ। কিন্ত দুলার হাট থানার ওসি আসামীদের সাথে আতাঁত করে অনৈকিত সুবিধা নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামী খোকন মাঝিকে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে তাকে রাত ভর থানায় আটক রেখে সকালে ছেড়ে দেন।
মামলার বাদী ইউসুফ ও ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, আসামীদের সঙ্গে থানার পুলিশের গোপন সখ্যতা থাকার কারনে দুলারহাট থানায় তারা মামলা দায়ের করতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে তারা আসামী খোকন মাঝিসহ ১৩ জনকে আসামী করে চাঁদাবাজী ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে চরফ্যাসন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করতে অনিহা দেখালেও তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মামলার ১৮ দিন পর দুই মামলার অন্যতম আসামী খোকন মাঝিকে গ্রেপ্তার করেন দুলারহাট থানা পুলিশ। পরে রাত ভর থানায় হেফাজতে রেখে আসামীর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মামলার বাদীদের অগোচরে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে অসুস্থ্য দেখিয়ে থানা থেকে মুক্তি দেন ওসি। এনিয়ে জন মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
থানা থেকে বেড়িয়ে আসামী খোকনের অব্যহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় পরেছেন তারা।
দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামী খোকন পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে মুচেলেকায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। সুস্থ্য হলে তিনি সেচ্ছায় আত্মসর্মপন করবেন। দুই মামলার আসামীকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, গ্রেপ্তারের পর একজন অফিসার ইন-চার্জ আসামীকে মোচলেকায় মুক্তি দিতে পারেন। তবে কি কারনে ওই আসামীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তা জানতে হবে।
চরফ্যাসন কোটের এডিশনাল পিপি এডভোকেট মো. হযরত আলী হিরন জানান, রেকর্ডভুক্ত মামলার আসামীকে গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেয়ার কোন বৈধতা পুলিশের নেই। এটা এখতিয়ারের বাহিরে। গ্রেপ্তারের পর থাকে হাজতে প্রেরন করতে হবে। পুলিশ ছেড়ে দিতে পারেনা।