শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর জেলা শহরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিপুল পরিমাণ চালসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে শহরের চাপাতলী এলাকার ‘জেরিন রাইস প্রসেসিং মিল’-এ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩৩ হাজার ১০০ কেজি (৩৩.১ টন) চাল জব্দ করা হয়।

অভিযানের সময় অবৈধভাবে চাল মজুত রাখার অপরাধে মিল মালিক মো. বোরহান উদ্দিনকে (৪২) আটক করা হয়েছে। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার কসবা ভাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জব্দকৃত চালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০০ টাকা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে জেরিন রাইস প্রসেসিং মিলে মজুত করা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান এবং শেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যৌথ অভিযান চালায়।

অভিযানকালে দেখা যায়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫০ কেজি ওজনের ৫০০ বস্তা এবং ৩০ কেজি ওজনের ২৭০ বস্তা (মোট ৭৭০ বস্তা) চাল সেখানে রাখা ছিল। রাতের আঁধারে সরকারি সিলমোহরযুক্ত বস্তাগুলো কেটে চাল সাধারণ বস্তায় স্থানান্তর (রি-প্যাকিং) করে খোলা বাজারে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করার প্রস্তুতি চলছিল। অভিযানের সময় মিল মালিক চালের স্বপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারির চেষ্টার দায়ে ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত চালের উৎস এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

শেরপুর সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাইস মিলের গোডাউনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকারি চাল চুরির এই ঘটনা শেরপুর জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচির চাল যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও দুস্থদের হাত পর্যন্ত পৌঁছায়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বাজার ও মিলগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।