মোঃ ইবাদুর রহমান জাকির স্পেন থেকেঃ ইউরোপ এর অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত দেশ স্পেনে ঘোষিত ঐতিহাসিক Regularización (বৈধকরণ) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী প্রায় ২০,০০০ অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

এসোসিয়েশন ভালিএন্তে বাাংলা”-এর উদ্যোগে আজ (৯ এপ্রিল) স্পেন সময় দুপুর ১২:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত স্পেন সরকারের অনুমোদনক্রমে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল এলাহী বলেন, স্পেন সরকারের ঘোষিত Regularización কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮ লাখ অভিবাসীর বৈধতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ২০,০০০ বাংলাদেশি রয়েছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তারা বৈধভাবে কাজ করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

তবে বাস্তবে পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী— প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা; সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দুর্নীতি; দূতাবাসে জনবল ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা; পাসপোর্ট সেবা প্রদানে ধীরগতি। এর ফলে প্রবাসীরা সময় সংকটে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে দালালের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, এই Regularización কর্মসূচির সময়সীমা ১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারলে হাজারো বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে— দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান, জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত পাসপোর্ট ইস্যু, পাসপোর্ট ফি হ্রাস বা বিশেষ ক্ষেত্রে মওকুফ, দূতাবাসে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, বিশেষ টাস্কফোর্স বা মোবাইল টিম গঠন, সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণ।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হবে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হাজারো প্রবাসী পরিবারের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।