লেবাননে ইজরাইলের নজিরবিহীন তাণ্ডব; একদিনে নিহত ২৫৪, থমকে গেছে যুদ্ধবিরতির আশা
প্রকাশ: ৭:১২ পূর্বাহ্ণ এপ্রিল ৯, ২০২৬

🔺 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে আজ রচিত হলো এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ইরান ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় যখন একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ক্ষীণ আশা উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই লেবানন জুড়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গত ২৪ ঘণ্টায় ইজরাইলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই সংঘাত শুরুর পর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
৮ এপ্রিল (বুধবার) স্থানীয় সময় সকাল থেকে ইজরাইল “অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস” এর আওতায় লেবাননজুড়ে প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে রাজধানী বৈরুত, দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা উপত্যকার ১০০টিরও বেশি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইতিপূর্বে ইজরাইলি হামলা মূলত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, আজ রাজধানীর মূল কেন্দ্রস্থলের জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত ২৫৪ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ। সিডন ও টায়ার শহরের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। একটি জানাজা চলাকালীন কবরস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জন শোকাতুর বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। বর্তমানে লেবাননের প্রায় ১৪ শতাংশ এলাকা ইজরাইলি উচ্ছেদ আদেশের আওতায় রয়েছে, যার ফলে ১০ লক্ষাধিক মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। ইরান ও পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ইজরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযান যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়।
লেবাননে এই ব্যাপক হামলার প্রতিবাদে ইরান পুনরায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে “ভয়াবহ গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেই মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।