মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বিশ্ব মানচিত্রে দূরবর্তী দেশ হলেও অর্থনৈতিক ধাক্কায় কাঁপছে বাংলাদেশ
প্রকাশ: ৯:১৩ অপরাহ্ণ এপ্রিল ৬, ২০২৬

🔘 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাংলাদেশের ওপরও গভীর ছায়া ফেলতে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে অস্থিরতা বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর অর্থনীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় সবটুকুই আমদানি করে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি খরচ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপিসি (BPC) এবং সরকার জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, যার ফলে দেশে ডিজেল, পেট্রোল এবং অকটেনের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ১ কোটি প্রবাসী শ্রমিক। যুদ্ধের কারণে যদি সৌদি আরব, কাতার বা ওমানের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। ইতোমধ্যেই ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে রেমিট্যান্স ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এবং লোহিত সাগরে চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছে। এতে করে কন্টেইনার ভাড়া এবং বিমা মাশুল (Insurance Premium) কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) খাতের ওপর। কাঁচামাল আমদানিতে দেরি হওয়া এবং রপ্তানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে পরিবহন খরচ এবং সেচ পাম্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছে। লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি ১.২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে এখনই বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।