এম ফাহিম, চরফ্যাসন (ভোলা): 

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী নীলকমল, নুরাবাদ ও মুজিবনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। গত কয়েক মাসে নীলকমল ইউনিয়নের দুই কিলোমিটারজুড়ে ভাঙনের ফলে প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে এবং ১ হাজার একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এসব এলাকার বাসিন্দারা।

ভাঙনের তীব্রতায় কেউ কেউ বাঁধের ঢালে কিংবা অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আ. রহিম বলেন,“এই নদীর পারে পরিবার নিয়ে ৫০ বছর বসবাস করেছি। এখন বসতবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব। জমিতেও আর চাষ করা যাচ্ছে না।”

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বৃদ্ধ জয়নাল আবেদিন বলেন,“দুই একর জমি বন্দোবস্তে পেয়ে বসত গড়েছিলাম। এখন সেই জমিও নেই, ঘরও নেই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাঁধের পাশে দিন কাটছে।”

অন্যদিকে, কৃষক আব্দুল মতিন জানান,“তেঁতুলিয়ার তীরে আমার ১২ একর জমি ছিল। ৫ একর লগ্নি করে চাষ করতাম। এখন সব নদীতে বিলীন।”

জেলে সামসুদ্দিন বলেন,“নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতাম। ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন ঝুপড়িতে থাকছি। সরকারের কাছে ঠাঁই চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলম বলেন,“তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন এখানকার মানুষের জন্য দুঃস্বপ্ন। স্থায়ী সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, “তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।”

তেঁতুলিয়া নদীভাঙনে শুধু জমি নয়, ভেঙে পড়ছে মানুষে গড়া স্বপ্নও। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভাঙনের গতি ও মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।