
ছবি : বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক থেকে তোলা।
এম ফাহিম ,চরফ্যাসন (ভোলা):
চরফ্যাসনে জ্যাকব টাওয়ার ,শিশু ও বিনোদন পার্ক, ফ্যাসন স্কয়ার, বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক, ‘বালিদ্বীপ’ খ্যাত প্রাকৃতিক নৈসর্গের দ্বীপ ‘কুকরি-মুকরিসহ চরফ্যাসনের পর্যটনকেন্দ্র গুলো দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
আইফেল টাওয়ার খ্যাত দক্ষিণ এশিয়ার সুউচ্চ জ্যাকব টাওয়ারে উঠে আকাশে ওঠার স্বাদ নিচ্ছেন অনেকেই। বৈরি আবহাওয়া ও থামিয়ে রাখতে পারেনি ভ্রমন পিপাসুদের আসা-যাওয়া। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন,সংযোজন করা হয়েছে নতুন রাইডস,বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপজেলার কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং বন্যপ্রাণির অভয়াশ্রম ইতিপূর্বেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কুকরি-মুকরি পর্যটনদ্বীপে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ভোলা জেলা সদর থেকে ১শ ২০ কিলোমিটার দূরের বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে উঠা এই কুকরি-মুকরিতে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ,ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, সর্পিল লেক, বালুকাময় সমুদ্র সৈকত , সামুদ্রিক নির্মল হাওয়া, তরঙ্গের গর্জন। এসব মিলিয়ে কুকরি-মুকরি প্রকৃতি প্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কুকরির বালুর দুমে মায়াবী হরিণ সহ নানান প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখছে পর্যটকরা। সাগর মোহনার তারুয়া, শিবচর আর কুকরি-মুকরিরসমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ‘বাংলার বালিদ্বীপ’ খ্যাত কুকরি-মুকরি পর্যটন এলাকা। প্রাকৃতিক নৈসর্গে ভরপুর ‘বাংলার বালিদ্বীপ’ কুকরি-মুকরিতে পর্যটকদের সুবিধার্থে ১৮টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, সুইমিংপুল, হেলিপ্যাড, টেনিস কোর্টসহ সর্বাধুনিক রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে।
পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় চরফ্যাসন সদরে যুক্ত হয়েছে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ হিসেবে পরিচিত ২শ ২৫ ফুট উচুঁ উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ও আধুনিব জ্যাকব টাওয়ার । প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ একর জমিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির উদ্যোগে নির্মিত এই টাওয়ার। চরফ্যাসন পৌরসভা টাওয়ারটির নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এদিকে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে দৃষ্টিনন্দন ফ্যাসন স্কয়ারের পাশে নির্মিত এই টাওয়ারটি উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে ও বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন পরিচিতি এনে দিয়েছে।
সম্পূর্ণ ইস্পাত দিয়ে নির্মিত ১৮ তলার এই টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। চারদিকে এ্যালুমিনিয়ামের উপরে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্চগ্লাস। টাওয়ারে চূড়ায় উঠানামার জন্য আছে সিড়িঁসহ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ডিজাইন করে আনা ১৩ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। জ্যাকব টাওয়ারটিতে সংযুক্ত আছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাইনোকুলার। যার সাহায্যে পর্যটকরা টাওয়ারের চূড়ায় দাড়িঁয়ে দক্ষিণে কুকরি মুকরির ম্যানগ্রোভ বাগান, তারুয়া সমুদ্র সৈকতসহ বঙ্গোপসাগরের একশ’ কিলোমিটার দূরের বিস্তৃত ‘বালিদ্বীপ’ পর্যবেক্ষণ ও উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও টাওয়ারে বিশ্রামাগার, প্রাথমিক চিকিৎসা সহ খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। টাওয়ারের চূড়ায় উঠতে জনপ্রতি প্রবেশ ফি মাত্র ১শ টাকা। প্রায় ৩ একর জমির উপর নির্মিত অত্যাধুনিক চরফ্যাসন শিশু ও বিনোদন পার্কে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। পর্যটকদের সুবিধার্থে টাওয়ার সংলগ্ন ফ্যাসন স্কয়ারে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সুইমিংপুল, অত্যাধুনিক লাইটিং মিউজিক্যাল ফেয়ারাসহ ২০ হাজার লোক ধারন ক্ষমতার ফ্যাসন স্কয়ার , অত্যাধুনিক মানসম্পন্ন শিশু ও বিনোদন পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।
এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দলবেঁধে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করছে। দক্ষিণ এশিয়ার সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার চরফ্যাসনের জ্যাকব টাওয়ারে সারাদিন দর্শনার্থীরা আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন। জ্যাকব টাওয়ারে উঠে পাখির মতো উপর থেকে সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করে প্রকৃতি প্রেমিরা । আর চরফ্যাসন শিশু পার্কে ট্রেন, পঙ্খিরাজ, দোলনা, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন রাইডসে চরে শিশুরা মেতে ওঠে আনন্দ উচ্ছ্বাসে । হৈ হূল্লুর আর চেচামেচিতে মেতে থাকে শিশু , কিশোররা।
চরফ্যাসনের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও এমন বিনোদনের ব্যবস্থা করায় সন্তুষ্টু ভ্রমন পিপাসুরা। কুকরি মুকরিতে পর্যটকদের থাকার সুবিধার্থে অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজের পাশাপাশি ছোট ছোট কটেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাখা হয়েছে ছোট ও মাঝারি মানের খাবার হোটেল। খুব কম দামে মানসম্মত টাটকা খাবারের নিশ্চয়তা রয়েছে।
চরফ্যাসন পৌর সভার প্রশাসক রাসনা শারমিন মিথি জানিয়েছেন, পর্যটকদের নেই কোন নিরাপত্তা ঝুকিঁ। ভ্রমন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।