জালালাবাদ বার্তা ডেস্ক:

অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সমস্যা তৈরি হয়। নির্বাচিত সরকার সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে, যা অনির্বাচিত সরকার পারে না। তাই জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে হবে।

শনিবার (৩ মে) সকালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী সমমনা দলের (এনপিপি) বৈঠক শেষে দলের সমন্বয় ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এই মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন, আগে জাতীয় নির্বাচন, সেই নির্বাচিত পার্লামেন্ট স্থানীয় নির্বাচন করবে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দীর্ঘ তিন ঘণ্টা মিটিংয়ে তত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ তিন মাসের পরিবর্তে চার মাস করা যেতে পারে জানানো হয়েছে।

মানবিক করিডোর যে সামরিক করিডরে পরিণত হবে না তার নিশ্চয়তা কে দিয়েছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত কিসের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে অন্তবর্তী সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন কতটুকু থাকবে সেই বিষয়েও কথা বলেছেন।

দলটি ব্রিফিংয়ে নারীদের জন্য ৫০-১০০ আসন বরাদ্দের পক্ষে। এছাড়াও পুলিশ সংস্কারে জোর গুরুত্বের সুপারিশ করেছে।

এর আগে সকালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি ড. আলী রীয়াজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছাড় দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

আলোচনার সূচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠায় আমাদের লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা। এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে ও রাষ্ট্র বিনির্মানের বিষয়ে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিটা দল এবং জোট কিছুটা ছাড় দিতে প্রস্তুত থাকবেন। আমরা সবাই এই প্রচেষ্টায় সমবেত হয়েছি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা জাতি ও রাষ্ট্রের অগ্রসর হওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দাবি করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, আমাদের এক জায়গায় আসতে হবে। তার অর্থ এই নয় যে, আমরা সব বিষয়ে একমত হতে পারবো। কিন্তু যেসব বিষয় রাষ্ট্র বিনির্মাণে, পুনর্গঠনে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরির জন্য প্রয়োজন সেখানে আশা করি একমত হতে পারবো।

আলোচনায় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক অ্যাড. ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ডা. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এমএন শাওন সাদিকী, কারী আবু তাহেরসহ প্রমুখ।

প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট মতামত জানাতে অনুরোধ করে সুপারিশগুলোর স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়।

ইতিমধ্যে সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৫টি দলের কাছ থেকে মতামত পেয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এ পর্যন্ত ২২টি রাজনৈতিক দল কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছে।