
🔘 অনলাইন ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমান্ত উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজছে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা এবং উত্তর ইজরায়েলে হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট ও ড্রোন আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ ও টায়ার অঞ্চলে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং কৌশলগত সুড়ঙ্গ পথ ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চালানো হামলায় উত্তর ইজরায়েলের বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
“আজ দুপুরে লেবাননের সীমান্তসংলগ্ন একটি গ্রামে ইজরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন জ্যেষ্ঠ ফিল্ড কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করেছে আইডিএফ। এই ঘটনার পর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা আজ রাতের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।”
সীমান্তের দুই পাশেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে গেছে। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখের বেশি মানুষ বৈরুত ও এর পার্শ্ববর্তী নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে, উত্তর ইজরায়েলের বাসিন্দারাও তাদের বাড়িঘর ছেড়ে হোটেল ও অস্থায়ী শিবিরে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী এই উত্তজেনার ফলে কৃষিকাজ ও স্থানীয় অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী (UNIFIL) সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে কাজ করলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একটি শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আক্রমণ থামাবে না। অপরদিকে, ইজরায়েল জানিয়েছে তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এবারের পরিস্থিতি ২০০৬ সালের যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। হিজবুল্লাহর হাতে থাকা অত্যাধুনিক মিসাইল প্রযুক্তি এবং ইজরায়েলের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লড়াইয়ে পুরো অঞ্চলটি একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।