চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি॥

ভোলার চরফ্যাসনে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মানিক হাজারীর বাড়িতে দুই দফায় এই ঘটনা ঘটে। এতে গৃহকর্তা মানিক হাজারীসহ পরিবারের দুই নারী সদস্য আহত হন এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

হামলার শিকার মানিক হাজারী জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে দুই ভাইকে মালদ্বীপ পাঠিয়ে দেন। তিনি বাবা-মা, দুই ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তান ও নিজের পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিবেশী খলিল মাঝি ও তার ছেলে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের দখলীয় ৭ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেন এবং উচ্ছেদের চেষ্টা চালান। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিস হলেও সমাধান না হওয়ায় তিনি চলতি বছরে খলিল মাঝিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চরফ্যাসন সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলা চলমান থাকায় খলিল মাঝি ও তার ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মানিকের দুই চাচাতো ভাই আওলাদ হাজারী ও ফিরোজ হাজারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিরোধ আরও তীব্র করেন।

বুধবার সকালে ওই চক্র মানিকের বাড়িতে গিয়ে জমি ছাড়ার হুমকি দেন। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মানিককে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও মানিকের স্ত্রীকেও মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। পরে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে বাগান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার নারকেল ও সুপারি লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

অভিযুক্ত খলিল মাঝির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চরফ্যাসন থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আরও পড়ুনঃ 

চরফ্যাসনে গ্রামীন জনপদে অভূতপূর্ব উন্নয়নে বদলে গেছে চিত্র

চরফ্যাসনে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের আর্থিক সহায়তা পেলেন অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী

চরফ্যাসনে ‘জুলাই জাগরণ’ শপথে লাখো কণ্ঠের দৃপ্ত উচ্চারণ