মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. দবিরুল ইসলাম-এর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

‎প্রবীণ এই রাজনীতিকের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ বালিয়াডাঙ্গীতে সমবেত হন। জানাজাস্থলে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

‎জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে অনেকে বক্তব্য দেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

‎এদিকে পিতার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে জানাজায় উপস্থিত হন তার ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ও অঝোরে কাঁদেন। এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেও জল আসে। পরে তিনি উপস্থিত সবার কাছে তার পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেন। আবেগঘন এ দৃশ্য জানাজাস্থলে উপস্থিত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে।

‎দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন।

‎সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। উন্নয়ন, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে তার অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে আলোচিত।

‎তার মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

‎উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

‎দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অবসান ঘটিয়ে শনিবার নিজ জন্মভূমির মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।