শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ইজারকৃত নির্ধারিত স্থান থেকে বালু না তোলে যত্রতত্র স্থান থেকে বালু উত্তোলণের ফলে ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের প্রতিবাদ করায় উপজেরা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ছাইদ মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ তোলেছেন শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জুবায়ের আহমেদ। এরই প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা ছাইদ মিয়া।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ছাইদ মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, বালু তোলার প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজীর অভিযোগ করা জুবায়েরকে আমি আওয়ামীলীগের লোক হিসেবে জানি। আমি ৩০/৩৫ বছর ধরে বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। কোনোদিন তাকে বিএনপির রাজনীতি করতে দেখিনি। বালু মহালের সাব ইজারা নিয়ে যথাযথ স্থান থেকে বালু উত্তোলণ না করে পরিবেশ নষ্টের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে জুবায়ের।

ছাইদ মিয়া লিখিত বক্তব্যে আরও জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আকরাম খান এর ভাতিজি জামাই পরিচয়ে জুবায়ের ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের বিগত ১৬ বছর বালু উত্তোলন করে সরকারী রাস্তা ঘাট, ব্রীজ, রাস্তার গাইড ওয়াল, মসজিদ-মন্দিরসহ অবকাঠামো ধ্বংস করে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পাইনি। সম্প্রতি এ ছড়া ইজারা দেয়া হলে জুবায়ের ২৪ এর ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ তাকে কোনদিন বিএনপির রাজনীতি করতে দেখিনি। জুবায়ের ওই ছড়ার ইজারাদার আলকাছ কমিশনারের কাছ থেকে সাব ইজারা এনে পরিবেশের কোন নিয়ম-কানুন না মেনে গায়ের জোরে মানুষ ও সরকারের সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

এ নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এলাকাবাসী উজারা বাতিলের দাবীতে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এর পর জুবায়ের আমার ও আমার ভাইদের বিরুদ্ধে ‘মানব সমাজ’ নামে একটি পত্রিকায় বক্তব্য দিয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করে।

ছায়েদ মিয়া বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে এ ধরনের সুযোগ সন্ধানী আওয়ামী দোসর জুবায়েরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে কামাল মিয়া, আছাদ মিয়াসহ গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাজু আহমেদ- জুবায়েরকে তাদের কমিটির সদস্য বলে স্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে সেখানে কি কি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার নিরিক্ষা করতে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।