শ্রীমঙ্গলে সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে সুশাসনের চর্চা শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে যৌথভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন শ্রীমঙ্গলের সেবাপ্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
বুধবার অর্ধদিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ সম্মলেন কক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন” বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিগণ এ অঙ্গীকার করেন। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অর্ধ-শতাধিক অংশগ্রহণকারী উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন এবং বিভিন্ন সেশন সঞ্চালনা করেন টিআইবি’র কো-অর্ডিনেটর-সিই মো: আতিকুর রহমান।
এতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, এর উপাদান ও বৈশিষ্ট্যসমূহ, সুশাসনের ঘাটতি দূরীকরণে করণীয়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট পরিচিতি, লক্ষ্যমাত্রা, গুরুত্ব, উপাদানসমূহ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ১৬ এর প্রয়োগ কৌশল, বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগণ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, সনাক শ্রীমঙ্গলের সভাপতি অ্যাড. আলাউদ্দিন, সহ-সভাপতি এস.এ হামিদ প্রমূখ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘‘ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে সমাজে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছে। রাষ্ট্রে গুণগত পরিবর্তনে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সরকারি সেবাখাতের প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতার চর্চা সুসংহত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জনগণ সমন্বিতভাবে একসাথে কাজ করলে যেকোনো ধরনের সংকট উত্তরণ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে”। এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণের বিদ্যমান ধারণা এবং জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ কর্মশালার মাধ্যমে প্রণয়নকৃত কর্ম-পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।