ছবি : দারিদ্র্যের তাড়নায় মেঘনায় শিশুরা।

এম ফাহিম, চরফ্যাসন(ভোলা):

ভোলার চরফ্যাসনে প্রায় তিন হাজার শিশু প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরছে। দারিদ্র্যের তাড়নায় সাত থেকে চৌদ্দ বছরের এসব শিশু পড়াশোনার বদলে পরিবারকে সহায়তা করতে নেমে পড়ছে নদীতে।

আসলামপুর এলাকার শিশু হাসিব (১১) ও হারিচ(১৪) ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাছ ধরে। তাদের বাবা ফারুক মাঝি জানান, পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ একা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে দুই ছেলেকে নিয়েই মাছ ধরতে হয়।

শুধু মাছ ধরা নয়, শিশুরা বাবুর্চির সহকারী, জাল টানা ও মাছ বাছাইয়ের কাজও করে। চর মাদ্রাজ এলাকার ট্রলারমালিক লোকমান হোসেন বলেন, অভাবের তাড়নায় শিশুরা নৌকা ও ট্রলারে নানা কাজে যুক্ত হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, চরফ্যাসন উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৪ হাজার ১০৫ জন। সাগরগামী জেলের সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৬১ জন। সাগরগামী ট্রলার রয়েছে ১ হাজার ৩৬৫টি। জেলে পরিবারের শিশুদের অনেকেই এ বয়সেই দক্ষ মাঝি হয়ে ওঠে।

সামরাজ মৎস্যঘাটের জেলে ইমন বলেন, “আমাদের ছেলেদেরও মাছ ধরতেই হবে। লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য নেই।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, আর্থিক অনটনের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবও শিশুদের স্কুল থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি উপবৃত্তি ও বিনামূল্যের বই থাকা সত্ত্বেও পরিবারে আয় বাড়াতে শিশুরা স্কুলে যায় না। অনেক শিশুর নাম স্কুলের খাতায় থাকলেও তারা সময় কাটায় নদীতে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, দারিদ্র্যের কারণে শিশুরা জেলে পেশায় যুক্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন জানান, শিশুজেলেদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা গেলে তাদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হবে।