স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) হাতে নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদনের জন্য এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান দেবে।

পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনের প্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে কার্যক্রম বিভাগে রয়েছে। যেকোনো একনেক বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় ৬৬ হাজার ৭৩৭টি বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ২ হাজার ৩৯৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রশিক্ষণে ৩ হাজার ১২৫ কোটি ৭৫ লাখ, অফিস ও বিদ্যালয় মেরামতে ৩ হাজার ৫২০ কোটি এবং স্কুল ড্রেস তৈরিতে ১০ হাজার ৩৫২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৯৪ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনায় ২ হাজার ২৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য শিশুদের বুনিয়াদি শিক্ষা, সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা বাড়ানো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা এবং পরিবেশ সচেতনতা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া চালু করা হবে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতে, ২০০৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের বুনিয়াদি সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা, ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গত ১৯ মে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় কর্মসূচিটি শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। পরে ব্যয় যৌক্তিকীকরণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. এহছানুল হক কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গুণগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও ফলাফলমুখী মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এর ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় প্রস্তাবটি ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা-২০২২’-এর অনুচ্ছেদ ৩.২.৩ অনুযায়ী একনেক সভায় অনুমোদনযোগ্য।

শিক্ষা সংবাদ/স্টাফ রিপোর্টার।