মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার শমসেরনগর রোডের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী ফয়জুর রহমান রুবেল (৫৫) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আলোচিত রুবেল হত্যার মূল আসামি জুহেল মিয়া ওরফে জুয়েল (২২),কে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল গ্রামে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী রুবেলকে হত্যার কথা স্বীকার করে জুয়েল (২২) জানায়, সে আগে মিষ্টির দোকানে কাজ করতো। বর্তমানে বেকার থাকায় অভাবের তাড়নায় গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে শমসেরনগর রোডের ফজজুর রহমান রুবেলের দোকানে ঢুকে। এক পর্যায়ে সে দোকানের মালিক ফয়জুর রহমান রুবেলকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পলিয়ে যায়। পরে রুবেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ঘটনার পর রুবেলের পরিবার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫, ধারা: ৩০২/৩৪)।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের, সদর থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান, তদন্ত কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করে দ্রুত তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল ১৭ আগস্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল এলাকা থেকে আসামি জুহেল মিয়াকে করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন ।

এসময় পুলিশ সুপার আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে এবং প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। একটি অটোরিকশার চালককে শনাক্ত করে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল গ্রামের জুহেল মিয়া ওরফে জুয়েল (২২) কে শনাক্ত করে। তার হাতে থাকা একটি ব্যান্ডেজ পুলিশকে তাকে শনাক্তে সহায়তা করে। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় হত্যাকাণ্ডের সময় তার ব্যবহৃত মাস্ক ও জুতা, হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি। এছাড়া রিকশাচালককে ভাড়া দিতে আসামি যে রক্তমাখা ২০ টাকার নোট দিয়েছিল সেটিও জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের, মৌলভীবাজার সদর থানার ওসি গাজী মো মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।