ছবিঃ সংগৃহীত

জালালাবাদ বার্তা ডেস্কঃ মেধাবী বুয়েট শিক্ষার্থী শাশ্বত সৌম্যের কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কেলৌনা ক্যাম্পাসের পাশে ওকানাগান লেকে সোমবার (২ জুন) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ধরা পড়েনি।

সৌম্য তাঁর পরিবারসহ আমেরিকার বোস্টনে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে না পেরে এক হঠাৎই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্থানের স্বীকার হন। মৃত্যুর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও ন্যায়-সমতার আদর্শ নিয়ে হতাশাজনক একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা, ন্যায় ও সমতার আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। লেখেন, “The great American dream is dead!” “মানুষ, সঠিক সিদ্ধান্ত নাও। পৃথিবী বদলে যাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকর্ষণ হারাচ্ছে—বিশেষ করে তাদের কাছে যারা শুধু গবেষণা আর কাজ দিয়ে দুনিয়াকে বদলাতে চায়।” তার এই পোস্টের ক’দিন পরই আসে তার মৃত্যুর সংবাদ।

সৌম্য বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জিপিএ ৪.০০ স্কেলে ৪.০০ পেয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর শিক্ষকতা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে। বর্তমানে এমআইটির পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত ছিলেন। সম্প্রতি কানাডার আন্তর্জাতিক একটি কনফারেন্সে অংশ নিয়ে গবেষণার কাজ উপস্থাপন করেছিলেন।

তার মা শিখা চক্রবর্তী আমেরিকার বোস্টনে ছেলের বাসায় ছিলেন। তিনি এক সময় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে শিক্ষকতাও করেন। সর্বশেষ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন, অবসর নেন গত বছর সেপ্টেম্বরে।মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তার ভাই সুজিত চক্রবর্তী বলেন, মৃত্যুর আগের রাতেই মা শিখাকে ফোন করে সৌম্য বলেছিল, “তুমি এখন অবসরে, দেশে তেমন কিছু নেই। বাবা আর ভাইকে নিয়ে আমার কাছে চলে এসো। দুদিন পর বিখ্যাত সব জায়গায় নিয়ে যাব।” কিন্তু সেই সফর আর হলো না।

সহপাঠীরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একজন মেধাবীর মৃত্যু নয়, তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও বৈষম্যের একটি প্রতীক। বুয়েটের শিক্ষক মাহমুদুল ইসলাম শাশ্বতকে হারানোতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার প্রতিভাকে মূল্যায়ন করেছেন।

এই দুঃসংবাদ পুরো শিক্ষাজগত এবং তার পরিবার-পরিজনসহ সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।