সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের জলিলপুর গ্রামে সুরমা নদীর পাড় কেটে ও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও ভিটমাটি লুটের মহোৎসব চলছে। গত কয়েক মাস ধরে এই লুটপাট চললেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
রবিবার (০১ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০-১৫টি বড় নৌকার পাশাপাশি গত সাতদিন ধরে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর পাড় সংলগ্ন মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি গ্রামের ফসলি জমি, কবরস্থান, গোসলের ঘাট ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,জলিলপুর গ্রামের ৬/৭ জন প্রভাবশালী যুবকের নেতৃত্বে এলাকার ৩০-৪০ জন যুবক এই সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি জড়িত।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মহোদয়কে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা ব্যবস্থা না নিয়ে থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। আবার থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি জানান, এটি মোবাইল কোর্টের কাজ, যা পরিচালনা করবেন ইউএনও বা এসিল্যান্ড। প্রশাসনের এই একে অপরকে দায়িত্ব ঠেলে দেওয়ার সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু খেকোরা।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে যে, সদর থানা ও নৌ পুলিশকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ (মাসোহারা) দিয়ে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ কারবার চালানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, গত কয়েক মাস ধরে এই চক্র নদীর পাড় থেকে বালু নিচ্ছে আমরা গ্রামবাসীরা বাধা দিলে আমাদের কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। “প্রশাসন সবই জানে, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না। আমরা কার কাছে যাব? আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে এর দায় কে নেবে?”
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিট্রেট বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে ড্রেজার দিয়ে নদীর তলদেশ ও পাড় থেকে বালু তুললে বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙন দেখা দেবে। সুরমা নদীর এই অংশে স্থায়ী ভাঙন দেখা দিলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার একটি বড় অংশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
গত কয়েকদিনের ভিডিও ও স্থিরচিত্র এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। গ্রামবাসী এখন আর মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান অভিযান ও বালু সিন্ডিকেটের গ্রেফতার দাবি করছেন। প্রশাসনের এই ‘নীরবতা’ কেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের জলিলপুর গ্রামে সুরমা নদীর পাড় কেটে ও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও ভিটমাটি লুটের মহোৎসব চলছে। গত কয়েক মাস ধরে এই লুটপাট চললেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।