মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে কাণ্ডারী হবেন কে?
প্রকাশ: ১০:০৫ অপরাহ্ণ আগস্ট ২৩, ২০২৫

মোহাম্মদ আলী শোভন, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার):
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। কুলাউড়া উপজেলা এক পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯০ জন। সিলেট বিভাগের রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে আসনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ২৩টি চা-বাগান, হাকালুকি হাওর, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ কুলাউড়াকে এনে দিয়েছে ভিন্ন পরিচিতি।
নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তৃণমূলের কাউন্সিল কার্যক্রমও শেষ করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রেদোয়ান খান দাবি করেছেন, ৩১ দফাকে মূলমন্ত্র ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেকটাই শেষ করেছে দল।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট নবাব আলী আব্বাস খান, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু, কুলাউড়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম রওশন আলী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি বিএনপির সভাপতি সৈয়দ জুবায়ের আলী, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিদ্দিক হোসেন রুবেল, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল আহাদ এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহাদ।
জামায়াতও আসনটিতে সক্রিয় রয়েছে। কুলাউড়ার সন্তান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে একাধিক সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দলকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
ধর্মভিত্তিক অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে আছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ কুলাউড়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস– দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিলেট মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান খোকন (হাতপাখা প্রতীক), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (রিকশা প্রতীক), কুলাউড়া উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও মাওলানা শাহ মাশুকুর রশিদ।
সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে তুমুল কৌতূহল ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। কে হচ্ছেন আগামী দিনের কাণ্ডারী—এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।