শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

সোনালি ধান দোল খাচ্ছে ফসলের মাঠে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে কৃষকদের মন। একদিকে ধান কাটতে মাঠে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন, অন্যদিকে মাঠ থেকে নতুন ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে উঠোন-আঙিনা প্রস্তুত করছেন কৃষাণিরা।

সবমিলিয়ে মৌলভীবজারের শ্রীমঙ্গলে এখন আমন ধান ঘরে তোলার আমেজ-উৎসব শুরু হয়েছে । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের তুলনায় চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১৪ হাজার মেট্রিক টন বেশী ধান উৎপাদন লক্ষমাত্রা স্থির করে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৫ হাজার ৩শ’ ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারন করা হয় ৬৮ লাখ ২ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন ধান। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৩৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান উৎপাদন হয়েছিল ৬৬ হাজার ৮শ’ ৩৮ মেট্রিক টন। যা এ বছরের তুলনায় ১হাজার ৪শ’ মেট্রিক টন কম।

কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে- অনুকুল পরিবেশ ও সরকারী প্রণোদনা দেয়ায় এবছর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার সিন্দুরখান, সাতগাও ও মির্জাপুর এলাকায় পরিদর্শন কালে কৃষকরা জানান, গত বছর থেকে এবার আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। আশিদ্রোন ইউনিয়নের শংকরসেনা গ্রামের কৃষক সালেক মিয়া (৪৫) এ বছর ১১ কেয়ার জমিতে ধান রোপন করেছেন। এর মধ্যে ৭ কেয়ার নিজের এবং বাকি ৪ কেয়ার বর্গা নেয়া। সালেক মিয়া বলেন, মাঠে ধান পাকতে শুরু করায় এখন তা কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে- বিস্তৃর্ণ সোনালী মাঠের দিকে তাকিয়ে বললেন- ফসল ভালো হওয়ায় আমি খুশি। সব ঠিক থাকলে এবার ১৪০ থেকে দেড়শ’ মন ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানান সালেক মিয়া। সাতগাও ইউনিয়নের কৃষক মাজহারুল মিয়া এবার ৯ কেয়ার জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছেন। বললেন – ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বীজ, সার, কিটনাশক ও সেচ মিলে যে উৎপাদন খরচ হয় ধান বিক্রি করে লাভ বেশী থাকে না। অন্যদিকে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক স্বল্পতা ও অতিরিক্তি মজুরি অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। তাই বেশী মজুরি দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। সিন্দুরখান চা বাগানের চা শ্রমিক বলরাম কুর্মি। ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে ধান কাটতে দেখা গেলো পাশের শিববাড়ী গ্রামের মাঠে। দৈনিক ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা মজুরীতে ধান কাটার কাজ করছেন। বললেন, বাগানে শ্রম মুজুরি কম হওয়ায় ধান কাটার মৌসুমে অনেকের মতো সেও ধান কাটার কাজ করছে। এতে মজুরি বেশী পাওয়ায় খুশি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, চলতি অর্থ বছরের রোপা আমন ধান উৎপাদনে কৃষকদের নানা ভাবে সহায়তা করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের সরকারী প্রণোদনায় ৩ হাজার ২শ’ ১০ জন কৃষি কার্ডধারীর মাঝে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সরবরাহ করা হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়ার কারনে গত বছরের তুলনায় এবার আমন চাষের জমি ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে বলে জানান তিনি।