চরফ্যাসনে খালে বাঁধ দিয়ে বিএনপি নেতার মাছচাষ – অনিশ্চয়তায় আমন চাষাবাদ
প্রকাশ: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ জুন ২৫, ২০২৫

চরফ্যাসনে খালে বাঁধ দিয়ে বিএনপি নেতার মাছ চাষ, অনিশ্চয়তায় ১০০ একর কৃষি জমির আমন চাষাবাদ|
◾চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি॥
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণ আইচায় খালে বাঁধ দিয়ে মাছচাষের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাষ্টারের বিরুদ্ধে। বাঁধের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে অচল হয়ে পড়েছে এক সময়ের খরস্রোতা খালটি। থমকে গেছে শতাধিক মাছধরা নৌকা চলাচলের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পঁচে যাচ্ছে কৃষকের বীজতলা এবং অনিশ্চতার মুখে পরেছে প্রায় একশ একর কৃষি জমির ধান চাষাবাদ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে কৃষক পরিবার গুলোতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরমানিকা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরফারুকী গ্রামের মধ্য দিয়ে যে খালটি প্রবাহিত হয়েছে। এটি স্থানীয়ভাবে চরফারুকী দলিল উদ্দিন মাস্টারের খাল নামে পরিচিত। এটি পশ্চিমে চরকচ্ছপিয়া খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দুইটি শাখায় পরিনত হয়েছে। প্রথম শাখাটি উত্তর দিকে গিয়ে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত অজুদ মাঝির ঘাটে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় শাখাটি দক্ষিণে সামছুদ্দিন ভূঁইয়া ও গফুর সিকদার বাড়ি পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে।
চরফারুকী গ্রামে খালেক বেপারী বাড়ি সংলগ্ন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলিলউদ্দিন মাষ্টারের খালটির মাঝ অংশে দুইটি বাঁধ দিয়ে একটি মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। বাঁধের কারনে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে পানি বন্দী হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রায় ৫০ পরিবার। পঁচে যাচ্ছে কৃষকের বীজতলা এবং অনিশ্চতার মুখে পরেছে ধান চাষাবাদ। অন্যদিকে অজুদ মাঝি ও সামছুদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ি পর্যন্ত ঘাট কেন্দ্রীক মৎস্যজীবিরা তাদের মাছধরা নৌকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক জানান, ৫ আগষ্টের পর সম্প্রতি সময়ে দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাষ্টার এই খালে দুইটি বাঁধ দিয়ে সেখানে চিংড়ি সহ দেশিও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। বর্তমানে বর্ষার পানি খালে নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকের বীজতলা সহ প্রায় ৫০ টি পরিবার পানি বন্দী রয়েছে। ফারুক মাষ্টার এবং তার লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না।
স্থানীয় কৃষক আল আমিন, নুরনবী ও ইব্রাহিম জানান, খালটিতে বাঁধ দেওয়ায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে বাঁধের আশপাশের জমির বীজতলা ডুবে রয়েছে। দ্রুত খালটির বাঁধ কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশন করার দাবী তাদের। তা না হলে প্রায় একশ একর কৃষি জমির ধান চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পরবে।
স্থানীয় জেলে মোকশেদ, খোকন ও সহিদ জানান, এই খালটিতে পানির খুব স্রোত ছিলো। আমরা প্রতিনিয়ত মাছ ধরার নৌকা আনা নেওয়া করতাম। খালটিতে বাঁধ দেওয়ায় মৎস্যজীবিদের নৌকাগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা অজুদ মাঝির ঘাটকেন্দ্রীক মৎস্যজীবিরা দুই কিলোমিটার দূরে চরকচ্ছপিয়া খালে নৌকাগুলো রাখতে হয়। এতে আমাদের নৌকার জাল সহ প্রয়োজনীয় মালামাল চুরির সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবিদের স্বার্থে খালের বাঁধটি কেটে দেওয়ার দাবি তাদের।
অভিযুক্ত দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাষ্টার বলেন, খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছি না। খালটির একাংশে আমার জমি রয়েছে। খালটির নামকরণ করেছেন আমার বাবা দলিলউদ্দিন মাষ্টার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে তাদের চলাচলের জন্য খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, কৃষকদের ক্ষতি হয় এমন কাজ কাউকে করতে দেয়া হবে না। বিষয়টি আপনাদের কাছে শুনেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই খালের বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশনা শারমিন মিথি বলেন, কোনোভাবেই খালে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।