টরন্টোর নাবিল আহসান এর ফেইসবুক থেকেঃ

বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে বার্চমাউন্ট প্লাজায় আমার অফিসে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ এক বিকট শব্দ শুনে মনে হল বিল্ডিংটা কেঁপে উঠেছে। রুম থেকে বের হয়ে বাইরে গেলাম। আমার অফিসের পাশে একটি বিউটি পার্লার। তার সাথে লাগানো বেকারি শপ। এই দুই দোকানের ভিতরে একটি গাড়ি ঢুকে বসে আছে। দেয়াটা অনেকটা ভেঙে পড়েছে, আর গাড়ির ১২টা বেজে গেছে। দোকানের ভিতর মানুষ ছিল, ভাগ্যক্রমে কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি।
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বার্তা শুনলাম। আমাদের দেশি মানুষ, তাই তারা নিজেদের কী বলছিল, সেটা শুনে ঘটনাটি কী ঘটছে তা বোঝার চেষ্টা করলাম। গাড়ি যিনি চালাচ্ছেন, অল্প বয়সী একটি চ্যাঙড়া পাতলা ছেলে, G1 লাইসেন্সধারী। বেশ বুশো দেখে মনে হলো new comer। ছেলেটি ড্রাইভিং লেসন নিচ্ছিল। ওস্তাদ ড্রাইভার মতো মোটা শোটা, সানগ্লাস পরা একটি ছেলে। একটু নায়ক নায়ক ভাব। তার G লাইসেন্স আছে। কিন্তু ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর নয়।
হ্যাঁ, কি ভাবছেন বুঝছি। না। এটা কোনো সমস্যা নয়। একজন ফুল G লাইসেন্সধারী, একজন শিক্ষানবিশ ড্রাইভারকে ড্রাইভিং লেসন অবশ্যই দিতে পারে। তবে শর্ত আছে। অর্থের বিনিময় হতে পারবে না। কারণ, অর্থের বিনিময় যারা লেসন দেয়, তাদের ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্স থাকে। এই পেশায় থাকার জন্য মোটা অংকের ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম দিতে হয়। তা ছাড়া গাড়িকে মডিফাই করতে হয়, যাতে প্যাসেঞ্জার সিটে ব্রেক থাকে।
এই ছেলেটি যদি একজন সার্টিফাইড ইনস্ট্রাক্টরের মাধ্যমে লেসন নিতো, তাহলে যেটা হতো, সেটা হল ইনস্ট্রাক্টর প্রথমত এমন একটি ব্যস্ত প্লাজাতে তাকে ড্রাইভিং শেখাতে না। তাছাড়া এমন ঘটনা যখন ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিত, ইনস্ট্রাক্টর তার পায়ের ব্রেকে চাপ দিত।
পুলিশ এলো, ফায়ার ট্রাক এলো, ভিড়ভাট্টা হলো। এরপর পুলিশ ৫০০ টাকার কেয়ারলেস ড্রাইভিংয়ের একটা জরিমানা দিয়ে চলে গেল। দুই ছেলেই ভাবল কাহিনী হয়তো এখানে শেষ। ৫০০ টাকার উপর দিয়ে বেঁচে গেছি। কিন্তু কাহিনী হবে পরে।
দোকানপাটে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে ইনস্যুরেন্স থেকে টাকা পেয়ে যাবে। আগামীকাল থেকেই বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল। কিন্তু যেই গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, তার ইনস্যুরেন্স কোম্পানি যখন আসল খেলাটা বুঝতে পারবে এবং বোঝাটাই স্বাভাবিক, কারণ প্রত্যেকটা ক্লেমের পরেই একটি ডিটেইল ইনভেস্টিগেশন হয়, তখন ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এই দুজনের বিরুদ্ধেই বিশাল অংকের একটি সিভিল মামলা করবে।
না, এখন করবে না। অনেকদিন সব কিছু চুপচাপ থাকবে। কারণ এখন ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ক্লেম সেটল করা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
কিন্তু পাওনাদারকে, পাওনা টাকা কখনো ভুলে যায় না! সুতরাং হাজার হাজার ডলারের বোঝা এই দুজনকে বইতে হবে অনেক দিন। হয়তোবা ৪০ বা ৫০ ডলার ঘণ্টায় দিয়ে একজন সার্টিফাইড ইনস্ট্রাক্টর থেকে ড্রাইভিং লেসন নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ ছিল, কি বলেন?

NABIL AHSAN Canadian Bangladeshi Lawyer
