
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
এবার মৌলভীবাজারের ৫৫৪টি ভোট কেন্দ্রে স্থায়ী সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি সেন্টারগুলোতে থাকবে একাধিক বডিঅন ক্যামেরা। এটি ভোট কেন্দ্র ও তার আশপাশ এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আমরা চাই সুন্দর একটি নির্বাচন মৌলভীবাজার বাসীকে উপহার দিতে। আর এটা মৌলভীবাজারেই সম্ভব। কারন, এ জেলার মানুষ শান্তি প্রিয়। এরপরও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা নিরাপত্তাজনিত ও শান্তিপূর্ন ভোট গ্রহনের লক্ষ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে এবার নতুন সংযোজন বডিঅন ক্যামেরা। এটি নজরদারীর ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রাখবে। এটি পুলিশ সদস্যরা বিশেষ বেল্টের মাধ্যামে বুকের মধ্যে বহন করবেন।
তিনি বলেন এ জেলায় ৫৫৪টি ভোট কেন্দ্র গুলোকে আমরা চুল ছেড়া বিশ্লেষন করছি। ইতিমধ্যে আমি প্রায় ৭০ ভাগ সেন্টার নিজে ভিজিট করেছি। সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জরা প্রত্যেকটি সেন্টার কয়েকবার করে ভিজিট করেছেন। এ সময় কেন্দ্র গুলোর ঝুঁকিপূর্ণতা ও কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা, প্রত্যেকটা বিষয় আমরা যাচাই করছি। সেই অনুপাতেই আমরা নিরাপত্তা জোরদার করবো। তিনি বলেন, এবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে থাকবে অনলাইন বডিঅন ক্যামেরা। এই ক্যামেরার কাজ হচ্ছে তাৎক্ষনিক দৃশ্যপট ধারণ ও রেকর্ড করা। এটি যে এলাকায় থাকুক না কেন তা কন্ট্রোল রুম থেকে ওয়াচ করা হবে। এতে কন্ট্রোল রুমে বসেই ভোট কেন্দ্রে যদি কোন দুস্কৃতিকারী বা কোন অপরাধী বিশৃঙ্খলা করছে কিনা তা দেখা যাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাবে। তিনি বলেন, এটি যেহেতু লাইভ ক্যামেরা আর লাইভ ক্যামেরার সামনে কোন অপরাধী সাধারণত আসতে চাইবেনা। এতে নির্বাচনে যে অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে তা এমনিতেই কমে যাবে। তিনি বলেন, যদি কেউ কোন অপরাধ করতে আসেও সেন্টার থেকে ফোন করে বলতে হবে না। কন্ট্রোল রুম থেকেই আমরা দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবো।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম ও অপারেশন নোবেল চাকমা পিপিএম জানান, ভৌগোলিক দিক দিয়ে মৌলভীবাজার জেলার দূরত্ব ও যোগাযোগ অন্যান্য জেলার মত নয়। এ জেলার ব্যাপ্তী প্রায় ২৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার। যেখানে ৭টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা ২১ লাখ ২২ হাজার ৭০৩ জন। জেলার বিশাল এলাকা জুড়ে সীমান্তবর্তী এলাকা ৭ উপজেলার মধ্যে ৫টিতেই সীমান্ত রয়েছে। এ জেলার ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ ৯০ হাজার ৬১৩ জন। তাদের ভোট প্রয়োগের জন্য কেন্দ্র রয়েছে ৫৫৪টি এবং কক্ষ রয়েছে ৩০১২টি। প্রত্যেটি কেন্দ্রের বুথে যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। ভোট কেন্দ্র গুলোকে আমরা সাধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করবো। তিনি বলেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেন্টারগুলোতে আামরা একাধিক বডিঅন ক্যামেরা রাখবো। সর্বোপরি আমরা চেষ্টা করছি সেরা একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার।
প্রশাসনের এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বডিঅন ক্যামেরা দ্বারা ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত থাকবে জেনে খুশি এ জেলার ভোটাররা। এ পদ্ধতি জেলাব্যাপী ভোটের মাঠের উদ্বেগ, উৎকন্ঠা কমিয়ে উৎসব আমেজের মাত্রা বাড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে একজন ভোটার শ্রীমঙ্গল সাদি মহলের স্বত্তাধিকারী মো. সায়েদ আলী বলেন, আমরা সাধারণ ভোটাররা চাই ভোট কেন্দ্র থাকবে নিরাপদ। আমরা যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আসতে পারি। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এটা নিশ্চিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস । তিনি বলেন, এবার ভোট কেন্দ্রে যেহেতু বডিঅন ক্যামেরা থাকবে আশা করছি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে আসতে পারবো।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন আসিফ মহিউদ্দিন পিপিএম কে জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনের জন্য জেলা পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীও থাকবে। আর এবারের বিশেষত্ব বডি অন ক্যামেরা, যার মাধ্যমে একযোগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার, সিলেট বিভাগীয় ডিআইজি অফিস ও মৌলভীবাজার এসপি অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি অবজারভেশন করা হবে।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, এবারের ভোটকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রত্যেকটি সেন্টারকেই আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো। এই মুহুর্তে এই কাজ গুলো চলমান।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের নির্দেশে তারা প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্র বার বার পরিদর্শন করছেন। কোন কেন্দ্র কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ? তা ইতিমধ্যে যাচাই করেছেন। পুলিশ সুপার এর নির্দেশ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
