◾চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড দৌলতপুর গ্রামে গত ১৭ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা পানি জমে সৃষ্ট হয় জলাবদ্ধতা। এতে বছরের ছয় মাস পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন গ্রামবাসী।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতপুর চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীর বেরিবাঁধ থেকে পশ্চিমে মালেক হাওলাদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১২শ ফুট এবং দক্ষিণে বেড়িবাঁধ থেকে উত্তরে জলিল মেম্বার বাড়ির সংলগ্ন পাকা সড়ক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে রাস্তাগুলো কাঁদা পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীতে মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাসিন্দাদের নিয়মিত হাঁটু সমান কাদা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বেলায়েত মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চরফ্যাশনের সব জায়গায় উন্নয়ন হলেও আমাদের দৌলতপুরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষায় ছয় মাস আমরা পানিবন্দি থাকি। ঘরের সামনে, উঠান, রাস্তা সবকিছু পানিতে নিমজ্জিত থাকে। আমাদের দুঃখের খবর রাখে না কেউ।”

একই এলাকার কহিনুর বেগম বলেন, “আমাদের ভোগান্তি ভাষায় বোঝানো যায় না, চোখে দেখতে হবে। ঘর থেকে বের হলেই হাঁটু সমান কাদায় পা রাখতে হয়। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বললেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। আমরা সরকারের কাছে রাস্তা নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের দাবি জানাচ্ছি।”

মো. কামাল হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরবাড়ি আর চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্বাচন এলেই সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরে আর খোঁজ নেয় না কেউ।”

এ বিষয়ে চরফ্যাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, “এখন আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে উপজেলা প্রশাসন আলাপ করে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেবে।”

এদিকে ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতিশ্রুতি নয়, তারা চান বাস্তব পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে কত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।