ছবি:৭২ বছরের প্রবীণ কারিগর আনিসুল হক মিয়া।

এম ফাহিম, চরফ্যাসন (ভোলা):

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাতানখালি গ্রামের এক কোণে বসবাস করেন ৭২ বছরের প্রবীণ কারিগর আনিসুল হক মিয়া। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এসেছে, তবুও দু’হাত থেমে নেই। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঁশের মোড়া তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

ছোটবেলায় এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে মোড়া বানানোর কৌশল শিখেছিলেন আনিসুল হক। তারপর সংসার বড় হয়েছে, সন্তান হয়েছে, কিন্তু জীবিকা বদলায়নি। আজও প্রতিদিন সকালে বাঁশ কেটে, চাকু দিয়ে কাঠামো তৈরি করে গড়ে তোলেন মোড়া।

তিনি জানান, “এই কাম কইরা চালাই নিজের খরচ। আর কেউ দেখবার নাই।” পাঁচ মেয়ের মধ্যে একমাত্র ছেলে থাকলেও খোঁজ নেন না তিনি।

আগের মতো আর বাঁশঝাড় নেই, এখন একটি বাঁশ কিনতে লাগে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। এ খরচে বানানো যায় ছোট ছয়-সাতটি মোড়া। সপ্তাহে প্রায় এক হাজার টাকার বিক্রি হয়। বাজারে এখন তেমন চাহিদা নেই, বিক্রিও কম।

দিনের শেষে এই বৃদ্ধের একমাত্র সঙ্গী তার সহধর্মিণী, যিনি কাজে সহায়তা করেন। পাড়া-প্রতিবেশীরা বলেন, অন্যের ওপর ভরসা না করে নিজের পরিশ্রমে চলেন আনিসুল হক।

বয়স, দারিদ্র্য আর অবহেলার মাঝেও হাল না ছাড়া এক নীরব আত্মসম্মানই আজ তার জীবনের মূল চালিকা শক্তি।