তারেক উজজামানঃ 

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিগত দুই দশকের মধ্যে এটি সিলেট বোর্ডের সর্বনিম্ন ফলাফলের রেকর্ড।

৩১ অক্টোবর শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বছর পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ধস নেমেছে।

ফলাফলের মূল পরিসংখ্যান:
পাসের হার: ৫০.৯০ শতাংশ। (গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে যা ছিল ৫১.৮৬ শতাংশ)। 
মোট পরীক্ষার্থী: ৭১ হাজার ৮৯৩ জন। 
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী: ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। 
অকৃতকার্য শিক্ষার্থী: ৩৫ হাজার ২৯৬ জন। 
জিপিএ-৫ অর্জনকারী: ১ হাজার ২০৪ জন। (গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন)। 

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলাফলের কারণেই সামগ্রিক পাসের হারে এই বড় ধস নেমেছে। এছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতির অভাবকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর সিলেট বোর্ডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছে। ২০০৫ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৪.৪০ শতাংশ। এরপর দীর্ঘ ২০ বছরের ব্যবধানে পাসের হার আবার এতটা নিচে নেমে এলো।

পর পর দুই বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় সিলেটের স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।