- জালালাবাদ বার্তা - https://www.jalalabadbarta24.com -

জামালপুরে বিচারক দম্পত্তির বাসায় চুরি: স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’- আদাত উল করীম: জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পত্তির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে প্রায় ১৯ লাখ ১৮ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, হীরার আংটি ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী ওই ভবনের গৃহকর্মী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ গণ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)। এর মধ্যে সুমন মিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী প্রায় সাত মাস ধরে শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা যথাক্রমে মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে কর্মরত।

 

গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তার স্ত্রী বিচারক নুসরাত জেরিন জেনীকে মাদারগঞ্জ এলাকায় জামথল ঘাটে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন। রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকা মূল্যের মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।

ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে একই ভবনের অপর একটি বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনাকারী, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্তে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া সুমন মিয়া ও নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব আগের কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তারা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো পদে নেই।