- জালালাবাদ বার্তা - https://www.jalalabadbarta24.com -

বাবার শিকড়ের টানে পাকিস্তান থেকে কুলাউড়ায় সিদ্দিক

কুলাউড়া, (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: ‎বাবার জন্মভূমি ও আত্মীয়স্বজনের টানে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ২৮ বছর বয়সী সিদ্দিক খান ওরফে ওমর সাদিক। দীর্ঘ কয়েক দশক পর পারিবারিক সূত্র খুঁজে পেয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুর চা-বাগানে পূর্বপুরুষের ভিটায় এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

‎সিদ্দিক খানের বাবা আলফু মিয়া ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে পাকিস্তানে চলে যান তিনি। এরপর বহু খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি স্বজনেরা। পাকিস্তানেই বেড়ে ওঠেন আলফু মিয়া এবং সেখানে বিয়ে করে সংসার গড়েন।

‎২০০০ সালে স্ত্রী কসর পারভিন ও দুই বছর বয়সী ছেলে সিদ্দিককে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন আলফু মিয়া। তবে দেশে আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। পরে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যান তিনি। এরপর আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ। ২০০৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আলফু মিয়ার মৃত্যু হয়।

‎সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টের সূত্র ধরে আলফু মিয়ার পরিবারের খোঁজ মেলে। ‘বঙ্গ ভিটা’ নামের একটি পেজে দেওয়া পোস্ট দেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাকিস্তানি শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ তাহির ওয়াহিদ বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হন। পরে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের সহায়তায় আলফু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয় এবং সিদ্দিক খানের সন্ধান পাওয়া যায়।

‎পরবর্তীতে তিন মাসের ভিসা নিয়ে গত ২২ মার্চ বাংলাদেশে আসেন সিদ্দিক। বর্তমানে তিনি কুলাউড়ায় আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শন করছেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের একজন সদস্যকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্বজনেরাও।

‎স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, সিদ্দিকের দাদা আত্তর মিয়া কুলাউড়ার গাজীপুর চা-বাগানে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর তিন ছেলে ছিলেন—মখলিছুর রহমান, গুলাইছ মিয়া ও আলফু মিয়া।

‎সিদ্দিক জানান, বাবার মৃত্যুর পর গোলাম সরদার নামের এক ব্যক্তি তাঁকে লালন-পালন করেন। বর্তমানে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে বসবাস করছেন তিনি। ২০২১ সালে বিয়ে করলেও এখনো তাঁর কোনো সন্তান নেই।

‎বাংলাদেশে ছোটবেলার স্মৃতি স্পষ্ট না থাকলেও এবার এসে কিছুটা বাংলা শিখে ফেলেছেন সিদ্দিক। উর্দুর পাশাপাশি বাংলাতেও কথা বলার চেষ্টা করছেন তিনি। বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে তিনি বলেন, খুব ভালো লাগছে। আত্মীয়স্বজনদের পেয়ে মন ভরে গেছে। আবার আইমু আসব ইনশাআল্লাহ।