মো.ফাহিম, চরফ্যাশন(ভোলা): ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ শতাধিক ছাত্রী গত ২৭ বছর ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হলেও বিদ্যালয়টিতে এখন পর্যন্ত কোনো পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বসার কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের পেছনের অংশের মেঝে ভেঙে পাশের পুকুরের সঙ্গে মিশে গেছে। যেকোনো সময় পুরো ঘরটি ধসে পুকুরে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। স্থানীয়রা জানান,বালিকা বিদ্যালয়টি দুলারহাট থানা সদরে অবস্থিত হওয়ায় চরফ্যাশনের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যালয়টি বেশ পছন্দের।
পড়াশোনার মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছর অনেক ছাত্রী এখানে ভর্তি হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকছানা বেগম বলেন, ‘ভবনের অভাবে আমরা শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো বসতে দিতে পারি না। টিনশেড ঘরে বৃষ্টির দিনে ক্লাস চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, আর গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যায়। অনেকবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য চারদিকে একটি সীমানাপ্রাচীরও খুব জরুরি।’ কয়েকজন অভিভাবক জানান, তিন দশক হতে চললেও স্থায়ী ভবন না হওয়াটা দুঃখজনক। ভাঙা ঘরে সন্তানদের পাঠিয়ে তাঁরা সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
চরফ্যাশন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে ভবন নেই বা সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের নামও সেই তালিকায় রয়েছে।’