
🔘 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বর্তমানে দেশের আইন প্রণয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বসা এই অধিবেশনে রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংখ্যক ৯১টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অধিবেশনটি আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা মেনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারিকৃত অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তর করাই ছিল এই অধিবেশনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) এর মধ্যে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার শেষ কার্যদিবসে রেকর্ড ২৪টিসহ অধিবেশনে এ পর্যন্ত মোট ৯১টি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া উল্লেখযোগ্য বিলসমূহ:
• বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণ: জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল-২০২৬’ এবং ‘শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে।
• আর্থিক খাতের সংস্কার: ভেঙে পড়া ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘ব্যাংক রেজোলিউশন বিল’, ‘আমানত সুরক্ষা বিল’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়েছে।
• জননিরাপত্তা ও প্রযুক্তি: বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৬’ এবং তথ্য সুরক্ষায় ‘ন্যাশনাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিল’ পাস হয়েছে।
• বিকেন্দ্রীকরণ: রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল পাসের মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন পথ সুগম করা হয়েছে।
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারি দল এবং বিরোধী দলীয় নেতা মাওলানা মো. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে সংসদীয় বিতর্ক ছিল প্রাণবন্ত। তবে তড়িঘড়ি করে বিল পাসের ধারা এবং কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরোধী দলীয় সদস্যদের আংশিক ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের ঘটনা সংসদীয় গণতন্ত্রের চিরাচরিত চিত্র তুলে ধরে। বিরোধী সদস্যদের দাবি, প্রতিটি বিলের খুঁটিনাটি ধারা নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান অধিবেশনটি আগামী ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা চলছে, যেখানে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার রক্ষা, গুম বিরোধী আইন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সংসদের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। বিশ্লেষকদের মতে, পাস হওয়া বিলগুলোর যথাযথ প্রয়োগই হবে আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ।