
🔺 অনলাইন ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং আজ ৬ এপ্রিল (সোমবার) ইরানের সর্ববৃহৎ দক্ষিণ পার্স (South Pars) পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ ইরানের আসালুয়েহ-তে অবস্থিত দক্ষিণ পার্স প্ল্যান্টে তারা শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। এই কেন্দ্রটি ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল দাবি করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর এটি তেহরানের জন্য বড় ধরনের সামরিক ধাক্কা।
গত ২ এপ্রিল ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে সাহসিকতাপূর্ণ অভিযানের মাধ্যমে তারা সেই পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ৬ এপ্রিল (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে ইরান যদি ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে না দেয়, তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং সেতুগুলোর ওপর আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতির নাম দিয়েছেন “আনলিশ হেল” (Unleash Hell)।
এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ওমান, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৪৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তেহরান এখন পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের দাবি, আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
গেল কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে এই সংঘাত একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।