
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ইউরোপ পাঠানো কথা বলে কাতার প্রবাসীর ভাইয়ের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন কাতার শ্রীমঙ্গলের কাতার প্রবাসী শুভ্রত চক্রবর্তী।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কাতার প্রবাসী সুভ্রত চক্রবর্তী বলেন, গত ২০২২/২৩ সালের দিকে তার ছোট ভাই সুকান্ত চক্রবর্তীকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছেন একই এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী। পরবর্তীতে তার ভাইকে বিদেশে পাঠাতে না পারায় তিনি বিকুল চক্রবর্তীর নেওয়া ৩ লক্ষ টাকা ফেরত দাবি করেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি ফোনে টাকা চাইলে বিকুল চক্রবর্তী টালবাহানা করেন। এক পর্যায়ে টাকার জন্য তিনি ফোন করলে বিকুল চক্রবর্তী তার ফোন রিসিভ করতেন না। চলতি বছর তিনি দেশে আসার পর গত ৬ মার্চ সবুজবাগে দোল উৎসবে বিকুল চক্রবর্তীকে পেয়ে টাকার জন্য চাপ দিলে, সে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে গত ৮ মার্চ শ্রীমঙ্গল থানায় সন্ত্রাসী হামলার মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে সুভ্রত চক্রর্তী আরও বলেন, বিকুল চক্রবর্তী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, শীতকালে শীতবস্ত্র প্রদান, ইফতার পার্টি, তার প্রেসক্লাবের ঈদ পূর্ণমিলনী, বনভোজনসহ নানা কর্মকান্ড দেখিয়ে আমার বৃদ্ধ মা আরতী চক্রবর্তীর কাছ থেকে নানা সময়ে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, বিকুল চক্রবর্তী আমার বিরুদ্ধে শুধু মামলা করে ক্লান্ত হয়নি সে তার কাকাতো ভাইকে দিয়ে আমার বাসায় হামলার চেষ্টাও করেছে।
আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় গত ২৪ মার্চ মৌলভীবাজার জেলা বিজ্ঞ আদালত থেকে আমি জামিন লাভ করি।
মামলায় বিকুল চক্রবর্তী উল্লেখ, করেছেন গত ৫ মার্চ সবুজবাগ দোল উৎসব চলাকালে তার উপর হামলা এবং মারধর করেছি। সত্য হলো ৫ মার্চ সবুজবাগ এলাকায় কোন দোল উৎসব ছিলনা।
তিনি তার বিরুদ্ধে মির্থ্যা মামলা প্রত্তাহার, ন্যায়বিচার এবং তার দেওয়া টাকা ফেরতের জন্য সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে পালন্টা অিভেযাগ কের বলেন, সুব্রত একজন অসত এবং চুর প্রকৃতির লোক। সে দেশে থাকা অবস্থায় মোবাইল চুরি করে ধরা পড়ে। বিদেশে গিয়েও তার কোম্পনি থেকে চুরি করার অভিযোগে চাকরি যায়। এছাড়াও সে তার প্রবাসী রোমমেটদের মানিব্যাগ ও পকেট থেকে টাকা চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সে অাদম ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। চাতকের এক ছেলেকে বিদেশ পাঠাবে বলে তার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সে অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়। রাতারাতি সে সবুজবাগে প্রাসাদোপম বাড়ি করেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
বিকুল চক্রবর্তী বলেন, আমার এক আত্মীয়ের একটি জমি অন্য একজনের নামে ভুল রেকর্ড হয়ে যায়। এ সুযোগে সে তিন লক্ষ টাকা দাবি করে। তারা টাকা না দিয়ে সদ্য প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান দুদু মিয়া সাহেবের শরণাপন্ন হন। পরে এলাকাবাসীসহ শালিশ বসে। যার নামে জমির রেকর্ড হয়েছিল তিনি সবার সামনে স্বীকার করেন—জমিটি তার নয়, ভুলবশত তার নামে রেকর্ড হয়েছে। পরে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে জমিটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মাঝখান থেকে টাকা আদায় করতে না পেরে সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তার এসব অপকের্মর সকল প্রমাণ আমার কােছ সংরিক্ষত রেয়েছ। সে আমাকে সমাজে হ্যায়পতিপন্ন করতে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তার এই সংবাদ সম্মেলন।